
প্রতিবছর ৬ নভেম্বর পালিত হয় বিশ্ব চিৎকার বন্ধ দিবস। ইংরেজিতে দিবসটি ‘World Let’s Stop Shouting Day’ নামে পরিচিত। অযথা চিৎকার, উচ্চস্বরে কথা বলা এবং উত্তেজিত আচরণ এড়িয়ে শান্তভাবে কথা বলার সচেতনতা তৈরিই দিবসটির মূল বার্তা।
দৈনন্দিন জীবনে পরিবার, কর্মক্ষেত্র কিংবা সামাজিক পরিবেশে মতের অমিল ও ভুল বোঝাবুঝি হওয়া স্বাভাবিক। অনেক সময় এসব পরিস্থিতিতে মানুষ ধৈর্য হারিয়ে চিৎকার করে বা উচ্চস্বরে কথা বলে। এতে সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে বিরোধ আরও বাড়তে পারে। শান্তভাবে নিজের বক্তব্য তুলে ধরা এবং অন্যের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার অভ্যাস গড়ে তোলার কথা মনে করিয়ে দেয় দিবসটি।
কোনো বিষয়ে মতবিরোধ হলে উচ্চস্বরে কথা বলার পরিবর্তে যুক্তি দিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করা বেশি কার্যকর। এতে আলোচনার পরিবেশ বজায় থাকে এবং ভুল বোঝাবুঝি কমানোর সুযোগ তৈরি হয়।
পরিবারের সদস্য, সহকর্মী কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলার সময় অন্যের বক্তব্য শোনাও গুরুত্বপূর্ণ। কেউ রাগান্বিত হলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে কিছুটা সময় নেওয়া যেতে পারে। পরে শান্তভাবে আলোচনা করলে অনেক সমস্যার সমাধান সহজ হয়।
চিৎকারের অভ্যাস কমাতে প্রথমেই নিজের রাগ ও উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে হবে। বিরক্তি তৈরি হলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে কিছুক্ষণ বিরতি নেওয়া যেতে পারে। কথা বলার সময় কণ্ঠস্বর স্বাভাবিক রাখা, অন্যের বক্তব্য শেষ হওয়ার অপেক্ষা করা এবং অপমানজনক ভাষা এড়িয়ে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ব চিৎকার বন্ধ দিবস জাতিসংঘ ঘোষিত আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক দিবস নয়। বিভিন্ন দিবসের ক্যালেন্ডারে এটি অনানুষ্ঠানিক সচেতনতামূলক দিবস হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে দিবসটির বার্তা দৈনন্দিন জীবনে শান্তিপূর্ণ যোগাযোগ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার চর্চাকে উৎসাহিত করে।
সম্পাদক : নূর আলম শেখ
ঠিকানা: ফরিদ মিয়া কমপ্লেক্স, মুকসুদপুর, গোপালগঞ্জ।
ইমেইল : ajkerjagaran@gmail.com
news@ajkerjagaran.com
Copyright © 2026 আজকের জাগরণ All rights reserved.