মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার কৃষ্ণাদিয়া শেখ আব্দুর রাজ্জাক আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. সাইফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্তের প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষ সাময়িক বরখাস্ত থাকায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার পশারগাতী ইউনিয়নের কৃষ্ণাদিয়া শেখ আব্দুর রাজ্জাক আলিম মাদ্রাসাটি ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই মাওলানা মো. সাইফুল ইসলাম অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ১ মার্চ মাদ্রাসার বাইরে সংঘটিত একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে অধ্যক্ষকে ২৬ মার্চ কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এর জবাবে তিনি ৩০ মার্চ লিখিত ব্যাখ্যা দেন। তবে তার দেওয়া জবাব গভর্নিং বডির কাছে সন্তোষজনক না হওয়ায় ৬ এপ্রিল তৎকালীন সভাপতি শেখ নাজিম উদ্দিন অধ্যক্ষ মাওলানা মো. সাইফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেন।
একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্তের জন্য মো. জাহিদুর রহমানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—অভিভাবক সদস্য হায়দার মৃধা, শিক্ষক প্রতিনিধি মুরাদ হোসেন ও দাতা সদস্য শেখ আব্দুস সালাম। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে বিস্তারিত প্রতিবেদন গভর্নিং বডির কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তদন্ত কমিটি কোনো প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়নি বলে জানা গেছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে অধ্যক্ষের সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে, ২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর ছয় মাসের জন্য গঠিত মাদ্রাসার এডহক কমিটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল শেষ হয়। এরপর সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী মাদ্রাসাটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদ আশিক কবির।
সাময়িক বরখাস্তের মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম সংক্রান্ত বিধান অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তদন্ত চলাকালে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করতে পারে। তবে সাধারণভাবে ৬০ দিনের অধিক সময় সাময়িক বরখাস্ত রাখা যাবে না এবং নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা কর্মচারী বিধি অনুযায়ী বেতন-ভাতাদি পাওয়ার অধিকারী—এমন বিধানের কথা তারা উল্লেখ করেন।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বক্তব্য
বর্তমানে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. জাহিদুর রহমান মুন্সী। অধ্যক্ষ মাওলানা মো. সাইফুল ইসলামের বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ তার জানা নেই। তবে মাদ্রাসার পাশে অধ্যক্ষের একটি জমি রয়েছে এবং পাশের জমির মালিকের সঙ্গে ওই জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে বলে তিনি জানান।
অধ্যক্ষের দাবি
সাময়িক বরখাস্ত থাকা অধ্যক্ষ মাওলানা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি শেখ নাজিম উদ্দিন ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর মাদ্রাসার ব্যাংক হিসাব থেকে একটি চেকের মাধ্যমে এক লাখ টাকা উত্তোলন করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই টাকা ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ সালের মধ্যে মাদ্রাসার ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও টাকা জমা দেওয়া হয়নি।
অধ্যক্ষ আরও দাবি করেন, এডহক কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তিনি বিষয়টি নিয়ে সাবেক সভাপতিকে একাধিকবার তাগাদা দেন। এতে অসন্তুষ্ট হয়ে মাদ্রাসার বাইরের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
তবে মাদ্রাসার ব্যাংক হিসাবের বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, মুকসুদপুর শাখার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর ৯৮৩৬৪৮৭ নম্বর চেকের মাধ্যমে শেখ নাজিম উদ্দিনের নামে এক লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সাবেক সভাপতি শেখ নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রতিষ্ঠান প্রধানের যৌথ স্বাক্ষরে ওই টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। টাকা মাদ্রাসার উন্নয়নকাজে ব্যয় করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে রেজুলেশন খাতায় উল্লেখ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
অধ্যক্ষ মাওলানা মো. সাইফুল ইসলাম তার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে দ্রুত স্বপদে বহালের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
সম্পাদক : নূর আলম শেখ
পুরানা পল্টন, ঢাকা-১২০০।
ইমেইল : ajkerjagaran@gmail.com
Copyright © 2025 আজকের জাগরণ All rights reserved.