
বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি, ডেটা অ্যানালিটিক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে দৈনন্দিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রকে বদলে দিচ্ছে। এই পরিবর্তনের যুগে বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছেন। তেমনই একজন হলেন নাসিমা আক্তার, যিনি বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও ডেটা অ্যানালিটিক্সে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে নিজের ক্যারিয়ারে তৈরি করেছেন নতুন সম্ভাবনার দ্বার।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের Atlantis University থেকে ইনফরমেশন টেকনোলজিতে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। তার বিশেষায়িত বিষয় ছিল ডেটা অ্যানালাইসিস ও বিজনেস ইন্টেলিজেন্স। উচ্চশিক্ষার আগে তিনি মার্চেন্ডাইজিং ও বিজনেস অপারেশনস খাতে কাজ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা তাকে বুঝতে সাহায্য করেছে যে ব্যবসায়িক সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে সঠিক ডেটা, পরিকল্পনা এবং বিশ্লেষণের ওপর।
এই সাক্ষাৎকারে তার শিক্ষাজীবন, প্রযুক্তি নিয়ে ভাবনা, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন সিনিয়র সাংবাদিক রিফাত বিন ত্বহা।
নাসিমা আক্তার:
আমার যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশে, যেখানে আমি মার্চেন্ডাইজিং এবং বিজনেস অপারেশনস খাতে কাজ করেছি। সেই সময় আমি উপলব্ধি করি যে ব্যবসায়িক সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে সঠিক ডেটা এবং কার্যকর পরিকল্পনার ওপর। এই অভিজ্ঞতাই আমাকে যুক্তরাষ্ট্রে ইনফরমেশন টেকনোলজি অধ্যয়নে অনুপ্রাণিত করে, যেখানে আমি ডেটা অ্যানালিটিক্স ও বিজনেস ইন্টেলিজেন্সের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি।
নাসিমা আক্তার:
আমি লক্ষ্য করেছি যে অনেক সময় পর্যাপ্ত ডেটা ছাড়াই ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার ফলে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হয়। তখন থেকেই আমি এমন একটি ক্ষেত্রে কাজ করতে চেয়েছি, যেখানে ডেটার মাধ্যমে ফোরকাস্টিং, পরিকল্পনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও কার্যকর করা যায়।
নাসিমা আক্তার:
আমার ক্যাপস্টোন প্রজেক্টের মূল বিষয় ছিল Power BI এবং SQL ব্যবহার করে সেলস ও ইনভেন্টরি অপটিমাইজেশন। এই প্রজেক্টে দেখানো হয়েছে কীভাবে ডেটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন ও অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানগুলো অদক্ষতা কমাতে এবং পূর্বাভাসের নির্ভুলতা বাড়াতে পারে।
নাসিমা আক্তার:
ডেটা অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অদক্ষতা শনাক্ত করতে, চাহিদার পূর্বাভাস দিতে এবং অপারেশনাল কার্যক্রম উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে জটিল সাপ্লাই চেইনে এটি দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, অপচয় কমানো এবং সামগ্রিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
নাসিমা আক্তার:
আমি বিশেষভাবে ডিমান্ড ফোরকাস্টিং, ইনভেন্টরি অপটিমাইজেশন এবং অপারেশনাল অদক্ষতা সম্পর্কিত সমস্যাগুলো সমাধানে আগ্রহী। আমার লক্ষ্য হলো এমন বাস্তবধর্মী অ্যানালিটিক্স সমাধান তৈরি করা, যা ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও কার্যকর করবে।
নাসিমা আক্তার:
অ্যানালিটিক্স ও এআই প্রতিষ্ঠানগুলোকে দ্রুত, স্মার্ট এবং আরও নির্ভুল সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করছে। ভবিষ্যতে যেসব পেশাজীবী প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও ব্যবসায়িক বোঝাপড়াকে একসঙ্গে কাজে লাগাতে পারবেন, তারা কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
নাসিমা আক্তার:
আমার ব্যাকগ্রাউন্ডের বিশেষ দিক হলো—এটি বাস্তব ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা এবং আইটি ও অ্যানালিটিক্স শিক্ষার সমন্বয়। ব্যবসায়িক অপারেশনসে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমাকে সমস্যাগুলো বাস্তবভাবে বুঝতে সাহায্য করেছে, আর প্রযুক্তিগত শিক্ষা সেই সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করার সক্ষমতা দিয়েছে।
নাসিমা আক্তার:
নতুন একাডেমিক পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া শুরুতে বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল, বিশেষ করে পড়াশোনা, গবেষণা এবং বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব অভিজ্ঞতা আমাকে আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ, মানিয়ে নেওয়ার সক্ষম এবং লক্ষ্যভিত্তিক হতে সাহায্য করেছে।
নাসিমা আক্তার:
এটি আমার পরিবারের জন্য অত্যন্ত গর্বের এবং আবেগঘন একটি মুহূর্ত ছিল। তাদের অবিরাম সমর্থন ও উৎসাহ আমার পুরো শিক্ষাজীবনে আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে।
নাসিমা আক্তার:
আমি এমন ডেটাভিত্তিক সমাধান তৈরিতে অবদান রাখতে চাই, যা অপারেশনাল দক্ষতা ও ব্যবসায়িক স্থায়িত্ব উন্নত করবে। আমার লক্ষ্য হলো এমন প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান তৈরি করা, যা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও স্মার্ট সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।
নাসিমা আক্তার:
আমার পরামর্শ হলো শুধু টুল শেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব সমস্যার সমাধানে মনোযোগ দেওয়া। ডেটাকে কীভাবে বাস্তব ব্যবসায়িক সমস্যার সমাধানে ব্যবহার করতে হয়, সেটিই প্রকৃত মূল্য তৈরি করে। এই ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা এবং নিয়মিত শেখার মানসিকতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ক্যারিয়ারে সফলভাবে এগিয়ে যাওয়ার গল্প অনেক তরুণ-তরুণীর জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে। নাসিমা আক্তার প্রমাণ করেছেন যে সঠিক লক্ষ্য, পরিশ্রম এবং ধারাবাহিক শেখার মানসিকতা থাকলে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সফলতা অর্জন সম্ভব।
ডেটা অ্যানালিটিক্স, বিজনেস ইন্টেলিজেন্স এবং এআইয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তিখাত আগামী দিনের বিশ্বে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। আর সেই পরিবর্তনের অংশ হয়ে নতুন প্রজন্মের সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন নাসিমা আক্তারের মতো তরুণরা।
সম্পাদক : নূর আলম শেখ
পুরানা পল্টন, ঢাকা-১২০০।
ইমেইল : ajkerjagaran@gmail.com
Copyright © 2025 আজকের জাগরণ All rights reserved.