মুকসুদপুর প্রতিনিধি: আজকের জাগরণ
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় সহকারী শিক্ষিকা সুইটি হককে ঘিরে পরকীয়া, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বাঙালি খবর পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের নানা তথ্য উঠে এসেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৩৫ নম্বর বুটিয়াম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুইটি হক ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর গোপালগঞ্জ নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে ইতালি প্রবাসী ডালিম শেখের সঙ্গে বৈধভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর ডালিম শেখ ইতালি চলে গেলে, ওই সময় থেকেই সুইটি হকের বিরুদ্ধে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ানোর অভিযোগ ওঠে।
স্বামী ডালিম শেখ অভিযোগ করেন, বিষয়টি জানার পর স্ত্রী তার কাছে ক্ষমা চেয়ে বিভিন্নভাবে তাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। এমনকি যাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌন হয়রানির অভিযোগপত্র তৈরি করে ছবি তুলে পাঠানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, স্ত্রী ও তার পরিবারের বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে ধাপে ধাপে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা পাঠিয়েছেন। এসব অ্যাকাউন্টের মধ্যে শাশুড়ি মুস্তারিয়া হক, শ্বশুর মজিবুল হক, সুইটি হক এবং পার্শ্ববর্তী এক নারী রোজিনা বেগমের অ্যাকাউন্টও রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
ডালিম শেখের দাবি, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি বিষয়টি নিশ্চিত হন। পরে তার পাঠানো অর্থ আত্মসাৎ করে তাকে একটি ভুয়া তালাকনামা পাঠানো হয় এবং যোগাযোগ করলে মামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
সংবাদ প্রকাশের পর স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এর আগেও অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছিল। বিষয়গুলো প্রকাশ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ করেন কয়েকজন স্থানীয়।
ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাকে বিদ্যালয় থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল বলেন,
“তার বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা শুনেছি। ঘটনাটি বিদ্যালয়ের বাইরের বিষয়, তবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।”
মুকসুদপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এটিও মাহাতাব বলেন,
“বিষয়টি মৌখিকভাবে জেনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযুক্ত সুইটি হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। বাড়িতে গেলে তালাবদ্ধ দেখা যায় এবং ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
সম্পাদক : নূর আলম শেখ
পুরানা পল্টন, ঢাকা-১২০০।
ইমেইল : ajkerjagaran@gmail.com
Copyright © 2025 আজকের জাগরণ All rights reserved.