নিজম্ব প্রতিবেদক- আজকের জাগরণ
কনকনে শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় পেঁয়াজের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। চলতি মৌসুমে সরকারি লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করছেন তারা। শীতের সকালে কুয়াশায় ঢেকে থাকা মাঠে সারিবদ্ধভাবে পেঁয়াজের চারা লাগাতে দেখা যাচ্ছে কৃষকদের কর্মচাঞ্চল্য।
মুকসুদপুর উপজেলা ছাড়াও গোপালগঞ্জ জেলার অন্যান্য এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর জেলার সালথা, নগরকান্দা ও ভাঙ্গা উপজেলায় ব্যাপকভাবে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়ে থাকে। এসব এলাকার উৎপাদিত পেঁয়াজ সুস্বাদু ও উন্নত মানের হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর চাহিদা রয়েছে।
মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মিজানুর রহমান জানান, উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকায় পেঁয়াজের চাষাবাদ হয়ে থাকে। এখানে মূলত তিন ধরনের পেঁয়াজের আবাদ হয়। অক্টোবরের শেষ দিকে কৃষকরা গুটি পেঁয়াজ রোপণ করেন, যা দেড় মাসের মধ্যে জানুয়ারি মাসে ঘরে তোলা হয়। নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চারা রোপণের মাধ্যমে হালি পেঁয়াজের আবাদ করা হয়, যা সাড়ে তিন থেকে চার মাসের মধ্যে পরিপক্ব হয়। এই উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আবাদ হয় হালি পেঁয়াজের।
তিনি আরও জানান, প্রাকৃতিক কোনো সমস্যা না হলে ৫২ শতকের এক বিঘা জমিতে গড়ে ১২৩ থেকে ১৫০ মণ পর্যন্ত পেঁয়াজ উৎপাদন সম্ভব। গত বছর উপজেলায় পেঁয়াজ চাষের সরকারি লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৯০০ হেক্টর। এবছর সেই লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কৃষকরা আরও বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ করছেন। পাশাপাশি বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রতিবছর ১০ থেকে ১৫ হেক্টর জমিতে বীজ পেঁয়াজ রোপণ করা হয়ে থাকে।
এদিকে মুকসুদপুর উপজেলার টেংরাখোলা গ্রামের সালাম শরীফের ছেলে আকরাম শরীফ দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। তিনি প্রতিবছর অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি ৪ থেকে ৫ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চাষ করে থাকেন। আকরাম শরীফ বলেন, পেঁয়াজের বীজ, সার ও কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হয়। সরকারিভাবে ভর্তুকি দেওয়া হলে অথবা এসব উপকরণের দাম কমানো হলে কৃষকরা পেঁয়াজ চাষে আরও উৎসাহ পেতেন এবং আর্থিকভাবে লাভবান হতেন।
তিনি আরও বলেন, মুকসুদপুর পৌরসভার টেংরাখোলা গ্রামের পলোর চাপ মাঠ পেঁয়াজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তবে মাঠটি নিচু হওয়ায় বর্ষার পর দীর্ঘদিন পানি জমে থাকে, ফলে সময়মতো পেঁয়াজ রোপণ করা সম্ভব হয় না। সরকারি উদ্যোগে একটি ড্রেন নির্মাণ করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলে কৃষকরা উপকৃত হবেন এবং একই সঙ্গে দেশের পেঁয়াজ উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।
সম্পাদক : নূর আলম শেখ
পুরানা পল্টন, ঢাকা-১২০০।
ইমেইল : ajkerjagaran@gmail.com
Copyright © 2025 আজকের জাগরণ All rights reserved.